নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে লাইনওয়ারে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার স্থলে বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে খুলশী থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ বদলি কার্যকর করা হয়।
একই আদেশে সিটিএসবি’র নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক জাহেদুল আলমকে বাকলিয়া থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এদিকে, জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ সোহেলকে আটক করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় তদন্তের জন্য পুলিশের একজন উপকমিশনারের (ডিসি) নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিএমপি।
শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী জানান, তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আটক সোহেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “একই ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এর আগে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে নাঈম হাসানকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করা হয়। এ সময় পোশাকধারী তিন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সোর্স হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাঞ্জাবি পরিহিত সোহেল।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের হাতে থাকা পাইপ দিয়ে মারধরের পাশাপাশি সোহেলও নাঈমকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন এবং নিজেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে সোহেল তা দেখাতে পারেননি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে খুলশী থানায় সোপর্দ করেন। সোহেল নগরের গরীবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় নাঈম হাসানের বড় ভাই কামরুল আলম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলায় সোহেলকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে। অপর দুই আসামি হলেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল।
ঘটনাটি ঘিরে ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।
